দুই মাসে পুড়েছে রাখাইন রাজ্যের ৪০ গ্রাম

0
9

পিপলনিউজ ২৪ ডেস্ক:

বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফেরত নেয়ার আলোচনার মধ্যেও রাখাইন রাজ্যে ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছেন মিয়ানমার সেনারা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) স্যাটেলাইটে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে এ দাবি করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গত অক্টোবর ও নভেম্বরে মিয়ানমার সেনারা রাখাইনে ৪০ গ্রামের ভবনসহ বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছেন।

গত ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর রাখাইনে এ নিয়ে ৩৫৪ গ্রাম আংশিক বা পুরোপুরি পুড়িয়ে দিলেন মিয়ানমার সেনারা।

এ সময়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

সংস্থাটি বলছে, নতুন করে পাওয়া স্যাটেলাইট ছবিগুলো প্রমাণ করছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

গত ২৩ নভেম্বর ওই সমঝোতা হয়। কিন্তু ২৫ নভেম্বর রাখাইনের মংডুর কাছে মিয়াও মি চ্যাঙ গ্রামে আগুন আর ঘরবাড়ি ধ্বংসের ছবি তুলেছে স্যাটেলাইট। পরের এক সপ্তাহের মধ্যে চারটি গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সময়েও রাখাইন গ্রামে বার্মার সেনাবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ চালানো থেকে এটিই প্রমাণ হয়, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার এই প্রতিশ্রুতি স্রেফ একটি প্রচারণা।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা গ্রামগুলো ধ্বংসের যেসব অভিযোগ বার্মার সেনাবাহিনী অস্বীকার করে আসছে, সেটিই প্রমাণ করে দিচ্ছে এসব স্যাটেলাইট ছবি।

মিয়ানমারের মংডু, বুথিডাং আর রাথিডাং শহরের আশপাশের এক হাজার গ্রামের ওপর স্যাটেলাইটের তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পেয়েছে এইচআরডব্লিউ।

এ বছর আগস্ট মাসের শেষের দিকে রাখাইনে সামরিক অভিযান শুরুর পর এসব গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়।

সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫৪ গ্রামের মধ্যে অন্তত ১১৮ গ্রামে হামলা হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বরের পর; যখন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের অফিস থেকে ঘোষণা দেয়া হয় যে, রাখাইনে অভিযানের সমাপ্তি হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ বলছে, আগস্ট থেকে রাখাইনে শুরু করা এই অভিযানের সময় বার্মার সেনাবাহিনী হত্যা, ধর্ষণ, গ্রেফতার আর ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড চালিয়েছে। জাতিগত নির্মূলের এই অভিযান মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেই সমতুল্য বলে সংস্থাটি দেখতে পেয়েছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে বেসরকারি দাতব্য প্রতিষ্ঠান মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ে (এমএসএফ) বলেছে, মিয়ানমারে আগস্টে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এক মাসে অন্তত ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে।

এর মধ্যে অন্তত ৬ হাজার ৭০০ মৃত্যুর কারণ সহিংসতা, যার মধ্যে পাঁচ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সের শিশু ছিল ৭৩০ জন। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

NO COMMENTS