প্রেম-ভালোবাসা কোথা থেকে আসে?

0
34

পিপল নিউজ ডেস্ক:

প্রেমে পড়লে আপনার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়? কি জানি হয়তো তখন খুব বেশি সুখি মানুষ বলে মনে করেন নিজেকে, আবার অনেক সময় ভীতিকর অনুভূতিও আসে হৃদয়ে।

ভালোবাসা এমন এক ধরণের আবেগ, যা এক কথায় বোঝানো কষ্টকর। ভালোবাসা নামের এই আবেগটি কীভাবে চালাকি করে মনে এবং মস্তিষ্কে বাসা বাধে এবং কীভাবে তা আপনাকে আস্তে আস্তে ক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন করে বছরের পর বছর ধরে, গবেষণা করেও এর সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে গবেষকরা জানান, ভালোবাসা ডোপামিন এবং নরপাইনফ্রাইন দ্বারা প্রভাবিত হয়, যা পরে সেরোটোনিন মাত্রায় হ্রাস পেয়ে একসঙ্গে মিলিত হয়। ইনফোগ্রাফিক হলো ‘যখন দুইজন মানুষ একে অপরের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন, তখন তাদের মধ্যে এক ধরণের আবেগ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

তারা একে ওপরকে কাছে পেতে চান এবং একে অন্যের কথা ভেবে সুখ অনুভব করেন।

২০০৫ সালের এক গবেষণায় ড. হেলেন ফিশার জানান,যখন কেউ প্রেমে পড়ে, ডোপামিন এবং নরপাইনফ্রাইন মস্তিষ্কের আলো জ্বালিয়ে দেয়।

মাই ব্রেস্ট এর গবেষকরা ব্যাখ্যা করেন যে, এই আকর্ষণের শারীরবৃত্তীয় কিছু লক্ষণ আছে যেমন- হৃদস্পন্দন, ঘাম এবং বর্ধিত শ্বাস শক্তি বেড়ে যায়।আসলে এটা ভালোবাসার এক অন্যরকম অনুভুতি, অনেক সময় একই অনুভুতি দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে গেলেও হতে পারে।

গবেষণায় দেখা যায়, ল্যাজওয়ালা নিউক্লিয়াস মস্তিষ্কের শেষে আড়া নিলয় সময়গত শিঙা ছাদে অবস্থিত। এটি ব্রেইনের সঙ্গে লিংক হয়ে সেলে কাজ করে।

এছাড়া ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষ সমৃদ্ধ। আমাদের সব চিন্তাধারা, অনুভূতি ও প্রেরণাকে একসঙ্গে একত্রিকরণের এবং সামাজিকভাবে আমাদের আচরণ প্রভাবিত মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে ল্যাজওয়ালা।

তবে ফিশার তার গবেষণায় লক্ষ্য করেছেন, ঘুমানোর সময় ল্যাজওয়ালা রোমান্টিক আবেগ বা চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করে। শুধু তাই নয় এটা ব্রেইনের মধ্যে কাজ করে মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটায়। আবার ডোপামিন সমৃদ্ধ অন্য এলাকায় সুখ এবং প্রেমের হুজুগ বাড়ায়।

যখন আমরা ভালোবাসা অনুভব করি তখন মস্তিষ্কের ক্রিয়া করে আবেগ বাড়ায়, লাল টুকটুকে গাল, উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বাড়ে, ঘর্মাক্ত এবং আবেগ অনুভূতির মত শারীরিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

গবেষকরা জানায়, অক্সিটসিন এবং পিটুইটারি গ্রন্থি-নিঃসৃত একরকম হরমোন যা ক্রিয়া কমায় ও রক্তচাপ বাড়ায়। এর মানে দাঁড়ায় যে অক্সিটসিন এবং পিটুইটারি গ্রন্থি-নিঃসৃত একরকম হরমোন যা ক্রিয়া কমায় ও দুজনের রক্তচাপ ও সেক্স বাড়ায়। এটা সঙ্গীদের কাছাকাছি হওয়ার ইচ্ছে বাড়ায় এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করে।

মজার ব্যাপার হলো, এই একই হরমোন যে গর্ভাবস্থা, মা-শিশু বন্ধনে এবং নার্সিং উন্মুক্ত করে।

কিছু গবেষক মনে করেন, অক্সিটসিনের ভালবাসার সঙ্গে সম্পর্কিত আবেগ ঈর্ষা ও হিংসার সংযোগ আছে।

এ বিষয়ে গবেষণায় এটাই দেখা যায়, আবেগ আমাদের মস্তিষ্কে নেতিবাচক এবং ইতিবাচক উভয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাইতো আমরা প্রেম ভালোবাসাকে হৃদয়ের ব্যাপার বলছি, যাতে মস্তিষ্ক ও মনের প্রকাশ আলাদা নয়।

NO COMMENTS