রাজন হত্যা: ময়না মিয়ার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি

0
75
পিপলনিউজ, সিলেট প্রতিনিধি:

শিশু সামিউল ইসলাম রাজন হত্যার আলোচিত মামলায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে চৌকিদার ময়না মিয়া। সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর আদালত ২ এর ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুল হক এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এ মামলায় আটক ১০ জনের মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আলোচিত এ মামলায় গ্রেফতারকৃত ১০ আসামির মধ্যে ৫ জন এখন গোয়েন্দা রিমান্ডে। বাকি ৫ জনের মধ্যে ৪জন জেলে। দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়া ঘাতক কামরুলকে।

এদিকে, ৫ দিনের পুলিশী রিমান্ড শেষ হয়েছে মামলার অন্যতম আসামি মুহিতের। পরে তাকে আরো ৭দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মহানগর গোয়েন্দারা।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে,  রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘাতকরা পরস্পরের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে সকলেই। পাশপাশি তদন্তে নিয়োজিত গোয়েন্দাদের বিভ্রান্ত করারও অপচেষ্টা চালাচ্ছে আসামিদের কেউ কেউ। তবে, কি কারণে চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু রাজনকে নির্মমভাবে খুন করা হল এই রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে রিমান্ডে।

এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, সৌদি প্রবাসী কামরুল বিকৃত রুচির লোক। বিকৃত লালসা চরিতার্থ করতে না পেরেই শিশুটির উপর এতোটা নৃশংস হয়ে উঠেছিল কামরুল। আর ঈদ বখশিসের লোভে শিশু রাজনকে কামরুলের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল চৌকিদার ময়না।

পিছিয়ে গেল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল : রাজন হত্যা মামলা মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত ও পুলিশের লাখ লাখ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্তে গঠিত টিম নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করেনি। ‘অজ্ঞাত পুরুষ’ উল্লেখ করে চুরির অপবাদ দিয়ে নিহত রাজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, পিতার এজাহার না নিয়ে থানা থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া, শিশু হত্যার এই ঘটনা ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করে দেন এসএমপি কমিশনার কামরুল আহসান। তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার কথা থাকলেও ৬ দিনেও রিপোর্ট দেয়নি কমিটি।

এই তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রুকন উদ্দিন গতকাল সোমবার যুগান্তরকে জানান, প্রতিবেদন দাখিল করতে আরো দু’একদিন সময় লাগবে।

শিশু রাজনকে বর্বরোচিত নির্যাতন করে হত্যার স্থানে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ স্তম্ভ নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্তম্ভ নির্মানের জন্য ইতিমধ্যে সাংসদ কেয়া চৌধুরী ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সাংসদ কেয়া চৌধুরী বলেন, রাজনকে হত্যার পর দেশে বিদেশে মানুষ প্রতিবাদ করছে। এটি আমরা ধরে রাখতে চাই। যাতে আর একটি শিশুও নির্যাতিত না হয়। সে লক্ষ্যেই শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ স্তম্ভ নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি।

সামিউল ইসলাম রাজনের নাম ভাঙ্গিয়ে নগরীর তালতলাস্থ কে এস এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান লটারি বিক্রি করছিল। কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই লটারি বিক্রি করায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর সুরমা পয়েন্ট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, নগরীর কুয়ারপাড় ৭৭ নং বাসার বাসিন্দা মৃত নেছার আহমদের পুত্র মামুন ও মতিয়ার।

NO COMMENTS