“‍চুম্বনের দৃশ্য কোনও ব্যাপারই নয়”

0
65

Swetha-Basu
পিপস নিউজ২৪ ডটকমপ্রতিবেদক: মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘মাকড়ি’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার। তারপর ২০১৪ সালে দেহব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার। দু’মাস পুনর্বাসন কেন্দ্রে। তারপর আবার অভিনয়ে। নতুন অধ্যায় শুরু স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘ইন্টিরিয়র ক্যাফে নাইট’ দিয়ে। ‘কামব্যাকে’ বিশ্বাস না-করা শ্বেতা বসু প্রসাদের নতুন জীবনের কথা তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

‘ইন্টিরিয়র ক্যাফে নাইটে’ আপনার অভিনয় প্রচুর প্রশংসা পেয়েছে। স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে কাজ তো এই প্রথম?
শ্বেতা বসু : ধন্যবাদ। ‘ইন্টিরিয়র ক্যাফে নাইটে’র শ্যুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল ২০১৪ সালে। ছবির পরিচালক অধিরাজ বসু আর আমি একসঙ্গে মুম্বইয়ের আর এন পোদ্দার স্কুলে পড়তাম। আট বছর ধরে ওকে চিনি। স্কুলে পড়ার সময়েই আমরা ভেবেছিলাম, একদিন ও ছবি পরিচালনা করবে আর আমি তাতে অভিনয় করব। এতদিন পরে সেটা সত্যি হল!

আপনি তো ছবিটার সহ-প্রযোজকও?
শ্বেতা বসু : হ্যাঁ। হঠাৎ করেই এই সুযোগটা এসে গিয়েছিল। এখন তো সকলেই শর্টফিল্ম খুব পছন্দ করছেন। ১২ মিনিটের ছোট্ট ছবি হলেও কাজ করতে দারুণ লেগেছে।

নাসিরুদ্দিন শাহকে ছবিতে অভিনয় করানোর ভাবনাও নাকি আপনারই ছিল?
শ্বেতা বসু : অধিরাজ যে আমাকে কাস্টিং ডিরেক্টরের কাজটা করতে দিয়েছিল, তার জন্য ওর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। যদিও ছবির পুরো ভাবনাটা ওরই, তবু আমি চেয়েছিলাম, নাসির আঙ্কলই ওই চরিত্রটা করুন। ওটা নাসির আঙ্কল ছাড়া এত ভালভাবে কেউ করতে পারতেন না।

নাসিরুদ্দিন শাহের সঙ্গে আপনি তো ‘ইকবালে’ কাজ করেছেন। সেই জন্যই কি ওঁকে রাজি করাতে সুবিধা হয়েছিল?
শ্বেতা বসু : সেটা তো খানিকটা অবশ্যই। যেহেতু ওঁর সঙ্গে আগে কাজ করেছি, তাই সুবিধা ছিলই। আমি স্ক্রিপ্টটা ওকে ইমেইল করেছিলাম। আর শেরনাজ ম্যামের (অভিনেত্রী শেরনাজ পটেল) সঙ্গে আমি আর অধিরাজ দু’জনেই গিয়ে দেখা করেছিলাম। ভাবতেই পারিনি যে অত প্রবীণ, অভিজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এভাবে এককথায় রাজি হয়ে যাবেন। দু’জনেরই স্ক্রিপ্টটা খুব পছন্দ হয়েছিল। তবে আমাকে আর নবীনকে (নবীন কস্তুরিয়া) আমি কাস্ট করিনি। ওটা অধিরাজেরই ইচ্ছে ছিল।

দ্বিতীয়বার নাসিরুদ্দিন শাহের সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগল?
শ্বেতা বসু : অসাধারণ! যদিও ‘ইকবালে’ কাজ করার পর মাঝের বছরগুলোতেও ওর সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। তা-ও এরকম একজন অভিনেতার সঙ্গে এক সেট’এ সময় কাটাতে পারলেও অনেক কিছু শেখা যায়। আমি অনেক সময়েই ওর সঙ্গে অভিনয় নিয়ে আলোচনা করেছি। উনি অনেক কিছু শিখিয়েছেন। ওকে তো দূর থেকে দেখতে পাওয়াও সৌভাগ্যের!

জাতীয় পুরস্কার পাওয়া। তারপর ওরকম একটা ঘটনা। তারপর আবার অভিনয়ে ফিরে আসা। কামব্যাকটা কেমন লাগছে?
শ্বেতা বসু : কীসের কামব্যাক? আমি কামব্যাকে বিশ্বাস করি না। আমি অভিনেত্রী। সব সময় অভিনেত্রীই ছিলাম। মাঝের সময়টা একটা বিবর্তনের মতো। আমি জানি আমি কী করেছি। অভিনয় ছাড়া কখনও কিছু করিনি, ভাবিওনি। তাই আমি মনে করি না এটা কোনও কামব্যাক।

‘বিবর্তনে’র পর প্রথম বড় কাজটা পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি না হয়ে শর্ট ফিল্ম হল কেন?
শ্বেতা বসু : এটা তো আর প্ল্যান করে করা নয়! সুযোগটা হঠাৎ এসে গিয়েছিল। তাই কাজটা করেছিলাম। অধিরাজও চাইছিল আমাকে দিয়ে একটা কাজ করাতে। স্ক্রিপ্টটা পড়ে খুব ভাল লেগে গিয়েছিল। তা ছাড়া আমি মনে করি, অভিনেতাদের সব মাধ্যমে, মানে টিভি, ফিল্ম, থিয়েটার— সব কাজই করা উচিত। যদিও আমি কোনোদিন থিয়েটারে অভিনয় করিনি। তবে সুযোগ পেলে সেটাও করব। যদি এটা ভেবে বসে থাকতাম যে, ফিল্ম ছাড়া অন্য কিছুতে অভিনয় করব না, তাহলে এত ভাল একটা শর্ট ফিল্মে কাজ করার সুযোগটা হারাতে হতো।

বড় পর্দায় কাজ করছেন না?
শ্বেতা বসু : করছি তো! ধর্ম প্রোডাকশন্‌সের ‘বদ্রীনাথ কি দুলহনিয়া’য় অভিনয় করছি। সেখানে আমার সঙ্গে বরুণ ধবন এবং আলিয়া ভাট্টও রয়েছেন।

আপনি তো জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। কী মনে হয়, একবার জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়?
শ্বেতা বসু : একেবারেই না! বরং উল্টোটা। দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। দর্শক সব সময় আশা করেন, আবার ওরকমই একটা ভাল কাজ করব। একটা জাতীয় পুরস্কার ভাঙিয়ে তো আর বেশিদিন চলে না! প্রতিবার নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। আমি তো এখনও অডিশন দিই, স্ক্রিন টেস্ট দিই। আর সেটাই তো উচিত! যেটা আমার প্রাপ্য, সেটুকুই পেতে চাই। পুরস্কার পেয়েছি বলে লোকে মুখ দেখে কাজ দেবে, তা আমি মোটেই চাই না!

আপনার চেহারাতেও তো অনেকটা বদল এসেছে। অনেক রোগা হয়ে গিয়েছেন! ইন্টারনেটে আপনার যে ছবিগুলো দেখা যায়, সেগুলোতে তো আপনি অনেক অন্য রকম!
শ্বেতা বসু : আমি জিম করতে ভালবাসি না। করিও না। বরং সাঁতার কাটি, যোগব্যায়াম করি। তবে খানিকটা বদল বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হয়েছে মনে হয়। বেবি ফ্যাটটা ঝরে গিয়েছে। মিডিয়া তো এখনও আমার পুরনো ছবিই ব্যবহার করে। আমার নতুন ছবি আপনাকে পাঠাব। পারলে ইন্টারভিউটার সঙ্গে ব্যবহার করবেন।

‘ইন্টিরিয়র ক্যাফে নাইটে’ তো নবীনের সঙ্গে একটা চুম্বনের দৃশ্যও আছে আপনার। অসুবিধে হয়নি?
শ্বেতা বসু : একেবারেই না। ওটাকে আমি ওভাবে চুম্বনের দৃশ্য হিসাবে দেখিইনি। দৃশ্যটায় আমাদের কাঁদতে কাঁদতে চুমু খেতে হয়েছিল। সেটা বরং কঠিন ছিল। নবীন অনেক বেশি ঘাবড়ে গিয়েছিল! ওকে আমিই বুঝিয়েছিলাম যে, এটা কোনও ব্যাপারই নয়। দু’জনেই ওটা কাজ ভেবেই করেছিলাম।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?
শ্বেতা বসু : গত একবছর ধরে ‘ফ্যান্টম ফিল্মসে’ স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ করছিলাম। কিছুদিন আগেই সেটা ছেড়ে দিয়েছি। এখন শুধু অভিনয়েই মন দিতে চাই।

আপনি তো শাস্ত্রীয় সংগীত নিয়েও কাজ করছিলেন! তার কী হল?
শ্বেতা বসু : আমার মনে হয়েছিল, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত আস্তে আস্তে ডুবে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে। তাই এক ঘণ্টার একটা তথ্যচিত্র পরিচালনা করেছি। নাম ‘রুট্‌স’। তাতে শিবকুমার শর্মা, হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, বিরজু মহারাজ, উস্তাদ আমজাদ আলি খান, শুভা মুদগল, এ আর রহমান এবং বিশাল ভরদ্বাজের সাক্ষাৎকার রয়েছে। কাজটা শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন বিভিন্ন দেশে চলচ্চিত্র উৎসবে ওটা পাঠাচ্ছি। স্যাটেলাইট রিলিজেরও চেষ্টা করছি। আশা করছি, সকলের ভাল লাগবে।

NO COMMENTS