নিউজ ডেস্ক : (ইউএনবি) রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদে ও স্থায়ীভাবে ফেরানোর কাজে সাহায্য করতে দিল্লি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
১৪ জুলাই, শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে রাজনাথ ভারতের এ অবস্থানের কথা জানান।
বৈঠকে দুই নেতা গত এক বছরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আলোচনা করেন। ওই সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত মানুষদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য ভারত রাখাইন রাজ্যে গৃহ নির্মাণের একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।’
রাজনাথ সিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধির জন্য শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।
বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদ প্রতিরোধে ভারত ও বাংলাদেশ একযোগে কাজ করে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছে বলে একমত হন দুই নেতা।
রাজনাথ সিং ভারত সরকারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশ সরকার যাতে ত্রাণ শিবিরে তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারে, সে জন্য ভারত সরকার ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ অব্যাহত রাখবে বলেও বৈঠকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন।
রাজনাথের এই সফরে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা এবং প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী বিনিময়ের জন্য হায়দরাবাদের সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল ন্যাশনাল পুলিশ একাডেমি এবং রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল ন্যাশনাল পুলিশ একাডেমির পরিচালক ডি আর ডলি বর্মন ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নজিবুর রহমান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের জন্য ভারতে আয়োজিত সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচিগুলোতে এই সমঝোতা ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলে হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল যৌথভাবে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ভবন উদ্বোধন করেন।
২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্প।
ভবনটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক ফরেনসিক ল্যাবরেটরি, ছদ্ম অপরাধ দৃশ্য, নকল থানা, কম্পিউটার ল্যাবসহ আইটি সেন্টার।


