Current date Jul 4, 2026
Lead Newsবিশ্ব

জাতিসংঘ-মিয়ানমার গোপন চুক্তি: ফিরলেও নাগরিকত্ব পাচ্ছে না রোহিঙ্গারা

URL copied
Share URL copied

অনলাইন ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করে প্রত্যাবাসন প্রশ্নে জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত গোপন সমঝোতা চুক্তির খসড়া ফাঁস হয়ে গেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ওই চুক্তির খসড়ার যথার্থতা নিশ্চিত করেছে। তারা ওই নথি পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, খসড়া চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের জাতিগত স্বীকৃতি মেলেনি। উপেক্ষিত হয়েছে তাদের নাগরিকত্বের দাবি-ও। জাতিসংঘ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক নীতির আওতায় গোপনীয় বিষয় ফাঁস হওয়ার পর তা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মে মাসের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জাতিসংঘ। চুক্তির বিস্তারিত এখনও প্রকাশিত না হলেও তা ইতোমধ্যেই অনলাইনে ফাঁস হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, তারা দুইটি বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থার সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে এটিই মিয়ানমার-জাতিসংঘ সমঝোতার খসড়া। ওই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন আগে খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়। তবে তার আগেই এর মূল ভাষ্য রচিত হয়েছিল কূটনীতিক ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য দেওয়া জাতিসংঘ শরণার্থী কমিশনের ব্রিফিং-এ। সেই নথিও রয়টার্সের হাতে এসেছে। প্রত্যাবাসন প্রশ্নে শরণার্থী কমিশনের একটি চিঠির অনুলিপিও পেয়েছে রয়টার্স।

ব্রিটিশভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম শুক্রবার ফাঁস হয়ে যাওয়া সমঝোতা স্মারকটি () পর্যবেক্ষণ করেছে। এটি এখন অনলাইনেও পাওয়া যাচ্ছে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকটির (এমওইউ) অনুলিপি পর্যালোচনার পর রয়টার্স জানিয়েছে, সই হওয়া গোপন চুক্তিতে দেশটিতে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কিংবা সারা দেশে স্বাধীনভাবে চলাচলের কোনো প্রকাশ্য নিশ্চয়তা নেই। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সমঝোতা স্মারককে উদ্ধৃত করে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। নাগরিকত্বের প্রশ্নের মীমাংসা কী হবে তাও স্পষ্ট নয়। প্রত্যাবর্তনকারী সবাইকে যথাযথ পরিচয়পত্রের কাগজ ও তারা যাতে স্বেচ্ছায় মুক্তভাবে ফিরতে পারেন, মিয়ানমার সরকারকে তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, রাখাইনে অন্যান্য অধিবাসীদের মতোই প্রচলিত আইন মেনে স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার ভোগ করবেন ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গারা। তবে রাখাইন রাজ্যের সীমানার বাইরেও তারা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারবে কিনা, সেই নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি। এমনকি বর্তমানে যে আইন ও নীতিমালা দিয়ে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাফেরার অধিকার রোধ করা হয়েছে, তা সংশোধনের প্রতিশ্রুতিও সেখানে নেই। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানেও নিশ্চিত করা হয়েছে, ৮২ সালে প্রণীত যে নাগরিকত্ব আইনে রোহিঙ্গাদের কার্যত রাষ্ট্রহীন করে রাখা হয়েছে, তা পর্যালোচনার কোনও পরিকল্পনা আপাতত নেপিডোর নেই।

মিয়ানমারে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক লরা হাই বলেন, যখন বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরছেন, তখন তার অর্থ হচ্ছে, তারা এমন একটি বর্ণবিদ্বেষমূলক রাজ্যে ফিরছেন, যেখানে তারা মুক্তভাবে চলাফের করতে পারবেন না। এমনকি তাদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে যাতায়াতের সুযোগ থাকবে না।

শরণার্থী নেতা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, এ চুক্তি রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

গত বছর মিয়ানমার সেনাদের নিধনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে। বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ানমারের এই জাতিগত নির্মূল অভিযানের সমালোচনা করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এখনও সফল হয়নি। সূত্র: রয়টার্স

Share URL copied
Lead Newsস্বাস্থ্য

হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো...

Lead Newsবাংলাদেশ

রেলযাত্রা দ্রুত ও নিরাপদ করতে চালু হবে বৈদ্যুতিক ট্রেন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক রেলপথে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনা, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রধান প্রধান রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন (বৈদ্যুতিক ট্রেন) চালুর...

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ‘চুক্তি’, বন্ধ হচ্ছে যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘সমঝোতা চুক্তি’ চূড়ান্ত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং...