গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের এক ইটভাটার মালিককে দিনে-দুপুরে একদল সন্ত্রাসী কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে। আজ রোববার দুপুরে গোপালগঞ্জ শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে নড়াইলের নড়াগাতী থানার চরসিংগাতী গ্রামে ইটভাটার পাশের সড়কের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত আসাদুজ্জামান টিটো শরীফ (৪৪) গোপালগঞ্জ শরীফ ব্রিকসের মালিক ও গোপালগঞ্জ শহরের পাচুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।
ইটভাটার মালিকের দেহরক্ষী দুলাল চৌধুরী জানান, ইটভাটার জমি নিয়ে টিটো শরীফের সঙ্গে গোপালগঞ্জের সীমান্তবর্তী চরসিংগাতী গ্রামের বক্কার চৌধুরী গংদের বিরোধ চলছিল। গতকাল শনিবার ওই জমি নিয়ে উভয়পক্ষ সালিশ করে। সালিশে সবাই টিটো শরীফকে ওই জমিতে কাজ করতে বলেন। আজ সকালে টিটো শরীফ শ্রমিক দিয়ে ওই জমিতে সীমানা বেড়াসহ অন্যান্য কাজ করেন।
পরে বেলা ১২টার পর মোটরসাইকেলে করে ওই জমি থেকে গোপালগঞ্জ শহরে রওনা দেন তিনি। তার ভাটার সামনে ওঁৎ পেতে থাকা পলাশ চৌধুরী, সেন্টু চৌধুরী, নতুন চৌধুরী, বক্কার চৌধুরী, রফিকুল ও আবদুল্লাহর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টেটাবিদ্ধ করে টিটু শরীফকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। পরে তাকে এলোপাথারি কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার ডান হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন করে মধুমতি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের ভাই আশিকুজ্জামন শরীফ বলেন, ‘আমার ভাইকে পলাশের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা জবাই ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
গোপালগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, ‘ইটভাটার মালিককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেছে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের নাম পেয়েছি। কিন্তু ঘটনাস্থল নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানায়। নড়াইল পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানিয়েছি, জড়িতদের ঠিকানা দিয়েছি। গোপালগঞ্জ ও নড়াইল পুলিশ আসামিদের ধরতে যৌথ অভিযান শুরু করেছে।’


