Current Date:May 10, 2026

৩ মণ আমে ১ কেজি ইলিশ!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: তিন মণ আম বিক্রি করেও মিলছে না এক কেজি ইলিশ মাছ। আমের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের আমচাষীরা। তবে কমদামে আম কিনতে পেয়ে খুশি ক্রেতারা।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কাশুয়া গ্রামের মনছুর আলম বলেন, গতকাল শনিবার তিনি সখ করে জেলা শহরের কালিবাড়ি বাজারে ইলিশ মাছ কিনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দাম শুনে তিনি ফিরে এসেছেন খালি হাতে।

আমচাষী ইউসুফ বলেন, স্থানীয় বাজারে তিন মণ সূর্যাপুরী জাতের আম বিক্রি করে তিনি দাম পেয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ টাকা। ছেলের টিউশন ফি দিয়ে তার কাছে অবশিষ্ট ছিল ৭০০ টাকা। ফলে ওই আমচাষীর ইলিশ কেনার সখ পূরণ হয়নি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. নিয়াজউদ্দিন বলেন, হাট-বাজারে ইলিশসহ সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে। আর দেশি প্রজাতির পুটি মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি।

মৎস্য বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, আম চাষীদের এবার মাথায় হাত পড়েছে। উৎপাদন খরচও উঠছে না। জেলার হাট-বাজারে এখন প্রতি কেজি সূর্যাপুরী, হিম সাগর, হাড়িভাঙাসহ বিভিন্ন জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১০ টাকা দরে।

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গুটি আমের ক্রেতা নেই। প্রতিকেজি আম এক টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-পরিচালক মো. আফতাব হোসেন বলেন, চাহিদার তুলনায় সারা দেশে প্রচুর আম উৎপাদন হয়েছে। জুস উৎপাদন করে তা বিদেশে রুপ্তানির উদ্যোগ নিলে চা শিল্পের মতো আম জাতীয় রাজস্ব যোগানে অবদান রাখবে।

Share