Current date Jul 3, 2026
Lead Newsঅর্থনীতি

বিক্রয় মূল্য নির্ধারণের পরও রাজধানীতে লাগামহীন চালের বাজার

URL copied
Share URL copied

দেশের বিভিন্ন মিলগেটের (বৃহৎ আড়ত) মতো পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চালের বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খবরটি বেশিরভাগ ব্যবসায়ী জানেন না। এ কারণে কোনও বাজারেই নির্ধারিত দামে চাল বিক্রি হচ্ছে না। তাই এখনও চালের বাজার লাগামহীন। রাজধানীতে চালের পাইকারি ও খুচরা বাজার থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি কেজি উৎকৃষ্টমানের মিনিকেট চাল ৫১ টাকা ৫০ পয়সা করে ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ৫৭৫ টাকা এবং মাঝারি মানের প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৪৫ টাকা দরে ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার আব্দুল গণি সড়কে খাদ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চালকল মালিক, পাইকারি ও খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে কৃষি বিপণন অধিদফতর চালের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করে দেয়। সংস্থাটির মহাপরিচালক মোহম্মদ ইউসুফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিলগেটে প্রতি কেজিতে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত ২ টাকা বাড়িয়ে পাইকারি এবং পাইকারি পর্যায় থেকে প্রতি কেজিতে আরও আড়াই টাকা বাড়িয়ে খুচরা পর্যায়ে বিক্রির জন্য দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে উৎকৃষ্টমানের মিনিকেট প্রতি কেজি ৫৩ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করবেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা তা বিক্রি করতে পারবেন ৫৬ টাকা কেজি। একইভাবে পাইকারি বাজারে মাঝারি মানের মিনিকেট বিক্রি হবে কেজিতে ৪৭ টাকা এবং খুচরা বাজারে তা ভোক্তার কাছে বিক্রি করা যাবে প্রতি কেজি ৪৯ টাকা ৫০ পয়সায়।

এরপরও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে। কারণ মিলগেটে দাম নির্ধারণের খবর ব্যবসায়ীদের কানে গেলেও পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চালের বিক্রয়মূল্য ঠিক করে দেওয়ার খবর তাদের অধিকাংশই জানেন না। এ কারণে কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে চাল বিক্রি হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীর বাদামতলী-বাবুবাজার চাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন বলেন, ‘মিলগেটে নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত ২ টাকা খরচ হয়ে থাকে আমাদের। এর সঙ্গে প্রতি কেজিতে ১ টাকা হোক আর ৫০ পয়সা হোক মুনাফা তো আমাদের করতে হবে। এটুকু লাভ না করলে খাবো কী? কাজেই পাইকারি পর্যায়ে চাল প্রতি কেজি ৫৪ টাকার কম দামে বিক্রি করলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। সরকার তথা খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে এটা বুঝতে হবে।’

খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা অনৈতিক কোনও মুনাফা করেন না। কোনাপাড়া বাজারের রহিম জেনারেল স্টোরের মালিক আবদুর রহিমের মন্তব্য, পাইকারি বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে চাল বিক্রি হয় না। তিনি  উল্লেখ করেন, ‘আমরা বাদামতলী পাইকারি বাজার থেকে যে দামে চাল কিনে আনি, তার সঙ্গে পরিবহন খরচ ও মুনাফাসহ প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৩ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করি। সরকার নির্ধারিত দামে পাইকারি বাজার থেকে চাল কিনতে পারলে আমাদের সেই অনুযায়ী বিক্রি করতে তো সমস্যা নেই।’

এ প্রসঙ্গ কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও বাজারে পাইকারি বা খুচরা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামে চাল বিক্রি না হলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। তার মুখে শোনা গেলো, ‘এক্ষেত্রে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সঙ্গে পরামর্শ করে চালের বাজারে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হতে পারে।’

নির্ধারিত দামের বেশি মূল্যে চাল বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরও বাজারে এর কোনও প্রতিফলন নেই। মোটা চালের অনুপস্থিতিতে সব ধরনের চিকন চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪-৬ টাকা। ৫৬ টাকা কেজি মিনিকেট বা নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকা কেজি। পর্যাপ্ত উৎপাদন, যথেষ্ট মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি না থাকার পরও চালের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকার বিব্রত।

সূত্র জানিয়েছে, দাম নির্ধারণ সংক্রান্ত সভায় খাদ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে আক্ষেপ ঝরেছে এভাবে, ‘একশ্রেণির অসাধু চালকল মালিক অবৈধভাবে ধান ও চাল মজুত করে রাখায় বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে। দেশে কৃষকদের কাছে ২ শতাংশও ধান নেই। আমরা গোপনে জরিপ করে প্রায় অর্ধশত মিলের খোঁজ পেয়েছি। এগুলোতে কমপক্ষে ২০০ মেট্রিক টন থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মেট্রিক টন ধান মজুত রয়েছে। এছাড়া ৫০০ মেট্রিক টন চাল মজুত করে রাখা হয়েছে।’

আড়তদাররাও ধান ও চাল মজুত করে রাখছে বলে মন্তব্য খাদ্যমন্ত্রীর। বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীরা সব জেনেও সরকারকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন না।

এদিকে লাগামহীন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী ভূমিকা পালনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন  বলেছেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা কোনও উদ্যোগ নেবেন না। তিনি মনে করেন, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। তবে সচিব জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয় চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহযোগিতা নিতে পারবে।

Share URL copied
Lead Newsবিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘শান্তিচুক্তি’: অবশেষে খুলছে হরমুজ প্রণালি

নিউজ ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অবশেষে হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন,...

Lead Newsবাংলাদেশ

নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ...

Lead Newsঅর্থনীতি

রূপালীক্যাশ ও আকিজ অনলাইনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত

নিজস্ব প্রতিবেদক দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘রূপালীক্যাশ’ এবং আকিজ অনলাইনের...