Current Date:Apr 30, 2026

ব্যাংক-আর্থিক খাতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। বিএনপির কোনো সরকার বাংলাদেশে এই সিদ্ধান্ত দেয়নি। বিগত দিনের ইতিহাসে নেই। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করবেন আগামীতে যে ব্যাংকিং সেক্টরে বলেন, আর্থিক সেক্টরে বলেন, কোনো পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট হবে কি না।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন- বিএনপি সরকারের সব নিয়োগ ছিল অরাজনৈতিক। সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণেই বিএনপি সরকারের সময় কোনো আর্থিক বিশৃঙ্খলা বা শেয়াবাজার লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমান গভর্নর কোনো দলের ব্যক্তি নন, তিনি বড়জোর কোনো দলের সমর্থক হতে পারেন। তবে তার যোগ্যতা থাকলে নিয়োগে কোনো বাধা নেই।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা কিছু মন্তব্য করেছেন। আসলে একটা বিল পাস হওয়ার পরে এই ধরনের আলোচনার কোনো সুযোগ ছিল না এখানে। সেটাও রুলস অব প্রসিডিউরের বাইরে হচ্ছে। যেহেতু ওনারা প্রশ্ন তুলেছেন, আমাদের উত্তর দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিগত সরকারগুলো যদি দেখেন,যতবার বিএনপি সরকারে এসেছে,প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে যতগুলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়েছে, সবগুলো নন-পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট। সবগুলো নন-পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট, আমি ক্লিয়ারলি বলতে চাই। যে কারণে বাংলাদেশের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে বিএনপি সরকারের সময় কোনো সমস্যা হয়নি। সব সময় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় ছিল। কোনো সময় শেয়ারবাজার লুটপাট হয়নি। কারণ, বিএনপির অ্যাপয়েন্টমেন্টগুলো কোনো সময় পলিটিক্যাল কনসিডারেশনে হয়নি এবং যোগ্য ব্যক্তিদের সেখানে দেওয়া হয়েছে। সেই ধারা এই সরকার অব্যাহত রাখবে- এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে চাই।

সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা যখন বিগত দিনগুলোতে দেখবেন, এই বিগত কেয়ারটেকার সরকারের সময় যখন গভর্নরের বয়স বাড়িয়েছে, তো সেই সময় তো আপনারা কোনো আপত্তি তোলেননি। গভর্নরের এজ আমরা বাড়াইনি, এটা বিগত কেয়ারটেকার সরকারের সময়ে বাড়ানো হয়েছে।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রধানের বয়স বৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বিলটা যখন ৯৩-তে হলো, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, তখন গড় বয়স ছিল ৫৭ বছর। এখন গড় বয়স হচ্ছে ৭২ বছর। আপনি কি এই লোকগুলোকে কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখতে চান? বাংলাদেশের এই নাগরিকগুলোকে, এই অভিজ্ঞ লোকগুলো, তাদেরকে কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখতে চান? কোথায় ৫৭ বছর, এখন ৭২ বছর । গড় আয়ু বেড়েছে বলে বয়স বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে যারা আছেন, তাদের তো আমরা বাইরে রাখতে পারবো না।

Share