Current date Nov 6, 2026
বাংলাদেশ

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে একই পরিবারের চার শিশুসহ মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু

URL copied
Share URL copied

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারে পাহাড় ধসে একই পরিবারের চার শিশুসহ মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রূমালিয়ার ছড়া এবং রামু উপজেলার মিঠাছড়ি এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনায় এই প্রাণহানি হয়েছে।

গত ৩ দিনের ভারি বর্ষণে জেলায় আরো প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রূমালিয়ার ছড়া বাঁচামিয়ার ঘোনা এলাকায় বুধবার ভোরে পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ শিশু মারা গেছে। ভোর ৬ টার দিকে পাহাড়ের একটি অংশ ওই এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী জামাল হোসেনের বাড়ির উপর ধসে পড়ে। এতে ঘরের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা ৪ শিশু চাপা পড়ে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মাটির নিচে চাপা পড়া শিশুদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় নিহতরা হলো- জামাল হোসেন এর কন্যা মর্জিয়া আকতার (১৬), কাফিয়া আকতার (১০), খাইরুন্নেছা (৬) এবং পুত্র আবদুল খাইর (৮)। নিহতদের মা ছেনুয়ারা বেগমকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতদের মামা খোরশেদ আলম জানান- ভোর ৬ টার দিকে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে বাড়ির উপর। এই সময়ে তাদের মা বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন। তার চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসে। মসজিদের মাইকেও ঘোষণা দেওয়া হয়। লোকজন এগিয়ে এসে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। মাটির নিচ থেকে ৪ শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের মা ছেনুয়ারা বেগমকে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে রামু উপজেলার মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পেচাঁরঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে মোর্সেদ আলম (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। সে ওই এলাকার জাফর আলমের পুত্র। বুধবার ভোরে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে বাড়ির উপর। এতে চাপা পড়ে পরিবারের ৩ সদস্য। তাদেরকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ২ জনকে হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত ৩ দিন ধরে কক্সবাজার জেলায় ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে ব্যাপক হারে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জেলার বিভিন্ন স্থানে সতর্ক সংকেত জারি করে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমান জানান, কক্সবাজার জেলা সদর সহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান দিয়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী ও খাবার দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নেতৃত্বে অভিযান চলছে। মাইকিং করার পরও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত যারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে না তাদেরকে প্রশাসনের উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের অফিসে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

 

Share URL copied
Lead Newsবাংলাদেশ

পানি বণ্টনে ভারতের কাছে ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ভারতের সঙ্গে পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চটা আদায় করতে চাইবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।...

Lead Newsবাংলাদেশ

দেশের মানুষকে নিরাপদ পানি দিতে ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক সারাদেশের মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন...

Lead Newsঅর্থনীতি

পপুলার লাইফের পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি এর ২৯৭ তম বোর্ড সভায় জনাব মোহাম্মদজহিরুল ইসলাম চৌধুরী পুনরায় কোম্পানীর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায়কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক...