Current date Jul 7, 2026
বাংলাদেশ

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে একই পরিবারের চার শিশুসহ মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু

URL copied
Share URL copied

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারে পাহাড় ধসে একই পরিবারের চার শিশুসহ মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রূমালিয়ার ছড়া এবং রামু উপজেলার মিঠাছড়ি এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনায় এই প্রাণহানি হয়েছে।

গত ৩ দিনের ভারি বর্ষণে জেলায় আরো প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রূমালিয়ার ছড়া বাঁচামিয়ার ঘোনা এলাকায় বুধবার ভোরে পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ শিশু মারা গেছে। ভোর ৬ টার দিকে পাহাড়ের একটি অংশ ওই এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী জামাল হোসেনের বাড়ির উপর ধসে পড়ে। এতে ঘরের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা ৪ শিশু চাপা পড়ে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মাটির নিচে চাপা পড়া শিশুদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় নিহতরা হলো- জামাল হোসেন এর কন্যা মর্জিয়া আকতার (১৬), কাফিয়া আকতার (১০), খাইরুন্নেছা (৬) এবং পুত্র আবদুল খাইর (৮)। নিহতদের মা ছেনুয়ারা বেগমকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতদের মামা খোরশেদ আলম জানান- ভোর ৬ টার দিকে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে বাড়ির উপর। এই সময়ে তাদের মা বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন। তার চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসে। মসজিদের মাইকেও ঘোষণা দেওয়া হয়। লোকজন এগিয়ে এসে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। মাটির নিচ থেকে ৪ শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের মা ছেনুয়ারা বেগমকে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে রামু উপজেলার মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পেচাঁরঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে মোর্সেদ আলম (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। সে ওই এলাকার জাফর আলমের পুত্র। বুধবার ভোরে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে বাড়ির উপর। এতে চাপা পড়ে পরিবারের ৩ সদস্য। তাদেরকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ২ জনকে হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত ৩ দিন ধরে কক্সবাজার জেলায় ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে ব্যাপক হারে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জেলার বিভিন্ন স্থানে সতর্ক সংকেত জারি করে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমান জানান, কক্সবাজার জেলা সদর সহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান দিয়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী ও খাবার দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নেতৃত্বে অভিযান চলছে। মাইকিং করার পরও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত যারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে না তাদেরকে প্রশাসনের উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের অফিসে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

 

Share URL copied
Lead Newsস্বাস্থ্য

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম...

Lead Newsঅর্থনীতি

রূপালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ স্কাউটসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ স্কাউট...

Lead Newsবাংলাদেশ

৫ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।...