Current Date:Apr 27, 2026

বর্তমান বাংলাদেশে একজন শেরে বাংলার খুব দরকার

ইভান নির্জন

বাংলাদেশের রাজনীতি এক ধরনের নীরব অস্থিরতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা বদলায়, স্লোগান বদলায়, জোটের সমীকরণ বদলায়—কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন খুব কমই আসে। এই বাস্তবতায় ইতিহাসের পাতা থেকে বারবার ফিরে আসে একটি নাম—শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। আজ তাঁর ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠির রাজাপুরে জন্ম নেওয়া এই নেতা ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র, সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁর গুরুত্ব কেবল পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ নয়।

শেরে বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে কৃষক ও শ্রমজীবী শ্রেণি। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি যে জনসমর্থন পেয়েছিলেন, তা তাঁর রাজনীতির ভিত্তি কতটা জনমুখী ছিল, তার প্রমাণ। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মধ্য দিয়ে তিনি উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। আবার পরবর্তীকালে বাস্তবতার আলোকে নিজের অবস্থান পুনর্বিবেচনার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক সততা ও দূরদৃষ্টির পরিচয়ও মেলে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা—সাহস ও নৈতিক দৃঢ়তা। আজকের রাজনীতিতে অবস্থান বদলানো সহজ হলেও অবস্থানে অটল থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। নীতি ও আদর্শের জায়গা অনেক ক্ষেত্রে কৌশল ও সুবিধাবাদের কাছে নত হচ্ছে। ফজলুল হক বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্রের শক্তি তার প্রান্তিক মানুষের মধ্যে নিহিত। কিন্তু আজও সেই মানুষ—কৃষক, শ্রমিক, তরুণ—নানামুখী অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার মুখোমুখি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের রাজনীতি কতটা মানুষের বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন ঘটাতে পারছে।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ক্ষমতার কাছে আপস না করে নিজের বিশ্বাসে অটল ছিলেন। এই মূল্যবোধ আজকের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। কারণ জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও জনমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। শেরে বাংলা ফিরে আসবেন না।

তবে তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সামনে একটি মানদণ্ড হিসেবে রয়ে গেছে। সেই মানদণ্ড সামনে রেখে যদি নতুন প্রজন্ম রাজনীতিকে নতুনভাবে ভাবতে পারে, তবেই একটি অংশগ্রহণমূলক ও দায়বদ্ধ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠা সম্ভব। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে সেই প্রত্যাশাই উচ্চারিত হোক— রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, কেবল ক্ষমতার জন্য নয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। Email: evannirjon71@gmail.com

Share