নিউজ ডেস্ক : নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ভাবার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল গণভবনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৩৭ বছর হয়ে গেছে এ দলের সভাপতি হিসেবে। এতগুলো বছর থাকাটা বোধ হয় সমীচীন নয়। আওয়ামী লীগকে মনে হয় ধীরে ধীরে চিন্তা করতে হবে নতুন নেতৃত্বের কথা। খবর বাসস।
সততার সঙ্গে রাজনীতি করার ও পাওয়া না পাওয়ার হিসাব না মেলাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি এ সময় তিনি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কতটুকু দিতে পারলাম, কতটুকু করব সেটাই বড় কথা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, সংগঠন যদি শক্তিশালী হয়, সংগঠনে যদি ঐক্য থাকে আর এ সংগঠন যদি জনগণের পাশে থেকে জনমত সৃষ্টি করতে পারে, তখনই যেকোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব হয়। আমরা তা বারবার প্রমাণ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশে ফেরা থেকে শুরু করে তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত, আন্দোলন-সংগ্রাম ও দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে তার অবর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব খোঁজার জন্যও দলীয় নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দেন।
৩৭ বছর আগে দেশে ফেরার সেই দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই আমাকে বরণ করে নেয়ার জন্য মানুষের যে ঢল দেখেছিলেন, মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছিলেন, তা এখনো তাকে আপ্লুত করে। তিনি বলেন, মা-বাবা, ভাই, পরিজনদের হারিয়ে বাংলার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসাই আমাকে চলার পথ দেখিয়েছিল। তাদের আশ্রয়েই আমার রাজনৈতিক জীবনের শুরু।
ছাত্ররাজনীতি করলেও আওয়ামী লীগের মতো সংগঠনের দায়িত্ব নেয়াটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক কঠিন সময়ে তিনি দেশে ফেরেন। জাতির পিতার খুনিরা তখন পুরস্কৃত হয়ে বহাল তবিয়তে, ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স থাকায় পিতা হত্যার বিচার চাইতে পারছেন না।
গণমাধ্যমকে নেতিবাচক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান: সরকারের বিরুদ্ধে সবকিছু নেতিবাচক লেখার ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল বিএফইউজে, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে যা কিছু, তা ইতিবাচক লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে না লিখলে কোনো গণমাধ্যম টিকে থাকতে পারে না। আমাদেরকে এ অসুস্থ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো রকম ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই সত্য তুলে ধরতে হবে। আমরা দেশের জন্য কোনো কিছু করলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা উচিত। এটা আমার বা আমার দলের স্বার্থে নয়, বরং দেশের স্বার্থে।
তিনি বলেন, প্রতি ১৫ দিন পরপর আমরা বিভিন্ন দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পরিবেশিত সংবাদ সংগ্রহ করছি। এতে দেখা যায়, আমাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অধিকাংশ নেতিবাচক সংবাদ। ইতিবাচক সংবাদ খুবই দুর্লভ।
বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গণমাধ্যমের সব সময় ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে জনকল্যাণ ও জনগণের আস্থা অর্জনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে জানাতে হবে।


