Current date Jul 10, 2026
বিশ্ব

ফরেনসিক প্রতিবেদনে মিলেছে রোহিঙ্গাদের হত্যা-ধর্ষণের প্রমাণ

URL copied
Share URL copied

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা হত্যা, ধর্ষণ ও জখমের শিকার হওয়ার যে বিভৎস বিবরণ দিয়েছেন, চিকিৎসকদের ফরেনসিক প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ উঠে এসেছে।

কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরে আহত রোহিঙ্গাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেয়া মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মানবাধিকারের জন্য চিকিৎসকদের (পিএইচআর) প্রতিবেদনটি জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু তার আগেই রয়টার্স সেটি দেখতে সক্ষম হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছেন।

দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের বিবরণকে সমর্থন করে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের এটিই প্রথম বড় কোনো উদ্যোগ।

পিএইচআর বিশ্বব্যাপী বড় বড় নৃশংস ঘটনাগুলোর চিকিৎসা সম্পর্কিত তদন্ত করছে। ভূমি মাইনে আহতদের নিয়ে কাজ করে ১৯৯৭ সালে সংস্থাটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারেরও অংশিদার হয়েছিল।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে চুট পিইন গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আলোকপাত করা হয়েছে।

ওই গ্রামটি থেকে বেঁচে আসা রোহিঙ্গারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী বেসামরিক লোকদের অগ্নিদগ্ধ, নারীদের ধর্ষণ, বসতবাড়ি ভস্মীভূত করে দিয়েছে। তাদের হিসাবে কয়েকশ লোককে সেখানে হত্যা করা হয়েছে।

এ প্রতিবেদন নিয়ে মিয়ানমার সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে জানতে চাওয়া হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, বাঙালি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী বৈধ জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। তারা সব ধরনের নৃশংসতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুট পিইন থেকে বেঁচে আসা ২৫ শরণার্থীকে পরীক্ষা করেছে পিএইচআর। তাদের মধ্যে ২২ জনের শরীরেই জখম ছিল।

এতে বলা হয়েছে, ১৭ জন গুলিতে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পাঁচজনের শরীরে মারধর ও লাথির আঘাত ছিল।

তিনজন বিস্ফোরণ ও অগ্নিদগ্ধে আহত হন, তিনজনের দেহে ছুরিকাঘাতসহ ধারালো অস্ত্রের জখম ছিল। দুজন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

পিএইচআর বলছে, সব ধরনের ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মেডিকেল নথির সঙ্গে নির্যাতনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের বিবরণ মিলে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে নিপীড়ন চালিয়েছে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে চুট পিইনকে আলোকপাত করা হয়েছে।

সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করা উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি।

অভিযানের কয়েক দিন আগে চুট পিইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৩৩তম হালকা পদাতিক ডিভিশনকে মোতায়েন করা হয়েছিল।

রোহিঙ্গাদের হুমকি-ধমকি দিতে এই ডিভিশনের কমান্ডাররা সম্প্রদায়টির নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকে বসেছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন লোকজন এ তথ্য জানিয়েছেন। আরেকটি বৈঠকে ৩৩তম ডিভিশনের কমান্ডার বলেন, তাদের সেনারা গ্রামে হামলা চালিয়েছিলেন।

দেশটির অভিজাত পদাতিক ডিভিশনের মধ্যে ৩৩তম অন্যতম। সাধারণত শত্রুদের প্রাথমিক প্রতিরোধ শেষ করে দিতেই এ ডিভিশনকে ব্যবহার করা হয়। তারা যে কোনো ধরনের হুমকি দ্রুত শেষ করে দিতে অভিযানে নামে।

Share URL copied
Lead Newsবাংলাদেশ

মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ

আরেফিন মুক্তা-মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি মুলক উপলক্ষেশনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে মুকসুদপুর...

Lead Newsবিশ্ব

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১.৪৯ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে গত বছর বাংলাদেশিদের টাকা জমার পরিমাণ নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত বার্ষিক...

Lead Newsবাংলাদেশ

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো সেই এডিসি সাকলায়েনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো....