Current date Oct 22, 2026
Lead Newsবিশ্ব

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১.৪৯ শতাংশ

URL copied
Share URL copied

নিউজ ডেস্ক

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে গত বছর বাংলাদেশিদের টাকা জমার পরিমাণ নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত বার্ষিক এক নথিতে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিরা যে হারে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক অর্থ জমা করেছেন, তা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (এসএনবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ আমানতের পরিমাণ বেড়ে ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছে; যা বাংলাদেশি ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে এক সুইস ফ্রাঁ বাংলাদেশি ১৫২ টাকার বেশি।

এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর টাকা জমার এই হার ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের শতাধিক ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়। ওই বছর সুইজারল্যান্ডের প্রতি ফ্রাঁ বাংলাদেশের ৯৫ টাকার সমান ছিল। সেই হিসেবে সেখানকার ব্যাংকে ওই বছর বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা; যা দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ জমা করা অর্থ।

কিন্তু গত বছর আমানতের উল্লম্ফনে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি গ্রাহকদের মোট তহবিলের পরিমাণ ২০২১ সালের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর রেকর্ডের ঠিক নিচে অবস্থান করছে।

এসএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উল্লম্ফনের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর ৪৩ শতাংশ আমানত বৃদ্ধি; যা এক বছর আগের ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৮২২.৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া গত বছর সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর। যেখানে তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ; যা ২০২৩ সালের ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালের ৩৫ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।

তবে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জমা রাখা আমানতের পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে। ২০২৪ সালের ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গত বছর বাংলাদেশি ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের আমানত ১১.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমেছে।

  • সুইস ব্যাংকে টাকা জমায় দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ
    এসএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ আমানত নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় নাগরিক ও দেশটির ব্যাংকগুলো। যদিও আগের বছরের তুলনায় তাদের আমানত ৮ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ ৮৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতের বিপরীতে বাংলাদেশের আমানতের পরিমাণ বেড়েছে ৪১ শতাংশ। এছাড়া সুইস ব্যাংকে আমানতের উল্লম্ফন দেখা গেছে আফগানিস্তানের নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর।

২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর দেশটি থেকে সুইস ব্যাংকে অর্থ আমানতের হার প্রায় ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। সুইস ব্যাংকে আফগানিস্তানের নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ মাত্র ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ।

  • অতীতের রেকর্ড কী বলছে?
    প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়। যা দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা।

তবে ২০২০ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ তার আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। ওই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ২০৩ কোটি টাকার বেশি।

তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাঁ। ২০১৮ সালে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৬২ কোটি সুইস ফ্রাঁ। আর ২০১৭ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ‘মোট দায়ের’ মধ্যে ব্যক্তিগত, ব্যাংক এবং অন্যান্য উদ্যোগের আমানতসহ সব ধরনের তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বৈধ-অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ গচ্ছিত রাখেন। দেশটির কঠোর গোপনীয় ব্যাংকিং নীতির কারণে সারা দুনিয়ার মানুষ সেখানে অর্থ জমা রাখেন।

সুইজারল্যান্ডের আইনে গ্রাহকদের গোপনীয়তা দৃঢ়ভাবে রক্ষার নিয়ম রয়েছে। এ আইনের ফলে দেশটির ব্যাংকগুলো কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রাহকদের তথ্য কারও কাছে প্রকাশে বাধ্য নয়।

ফলে কারা, কেন অথবা কীভাবে অর্থ ব্যাংকে রাখছেন, সে সম্পর্কে ব্যাংকগুলো কাউকে কোনো তথ্য দেয় না। তবে সম্প্রতি গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ও সমালোচনা দেখা দেওয়ায় অনেকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে তাদের অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন।

Share URL copied
Lead Newsবাংলাদেশ

টিকাকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার বিব্রত, তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরকার বিব্রত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার...

Lead Newsঅর্থনীতি

রূপালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন শাখা ব্যবস্থাপকদের অংশগ্রহণে ৩১ আগস্ট ২০২৬ ভিত্তিক ‘ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা’ অনুষ্ঠিত...

Lead Newsঅর্থনীতি

রূপালীক্যাশের ডিস্ট্রিবিউশন ও মার্চেন্ট অ্যাকোয়ারিং কার্যক্রমে যুক্ত হলো আকিজ অনলাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ‘রূপালীক্যাশ’-এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও দেশের সর্বস্তরের জনগণের কাছে ডিজিটাল...