Current date Sep 12, 2026
বাংলাদেশ

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডকে ঝুঁকিতে ফেলবে

URL copied
Share URL copied

নিজস্ব প্রতিবেদক : রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালন করার মতো ক্ষমতা বর্তমান জাতীয় গ্রিডের নেই। ভাড়া চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ৪০ বছরের পুরোনো সরকারি কেন্দ্রের কারণে জাতীয় গ্রিড ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে গ্রিড বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

জাতীয় গ্রিড আধুনিক করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। এসব অর্থ যোগ করলে আবার রূপপুর কেন্দ্রের খরচ বেড়ে যাবে। এত অর্থ বিনিয়োগ করে ঋণ নির্ভর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে সরকারের উচিত সরে আসা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারের প্রধান আলোক যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাইফুর রহমান বলেন, রাশিয়া স্পেন্ট ফুয়েল (পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি) নিতে চেয়েছে, কিন্তু কত বছর ধরে নিবে এটি পরিষ্কার হওয়া দরকার। জাপান তার দেশের কেন্দ্রগুলোর স্পেন্ট ফুয়েল ফ্রান্সে পাঠিয়ে দেয়। ফ্রান্সের নৌবাহিনীর বিশেষ জাহাজ আসে স্পেন্ট ফুয়েলের নিরাপত্তা দিতে। ফ্রান্সের নৌবাহিনীর সেই ব্যয়ও জাপানকে দিতে হয়। এখন আমাদের রূপপুরের স্পেন্ট ফুয়েল রাশিয়া নিয়ে যাওয়ার সময়ে তার নিরাপত্তা দিতে রাশিয়ার নৌবাহিনী আসবে কিনা। একদিকে খরচ বাড়ছে অন্যদিকে ভূ-রাজনীতির অংশ বাংলাদেশ হয়ে যাচ্ছে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলেও তাঁর মত।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসিব চৌধুরী বলেন, দেশে রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক) বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় তার তরঙ্গ আর জাতীয় গ্রিডে যে তরঙ্গে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তা এক নয়। এর মধ্যে যদি ২৪’ শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ একটি কেন্দ্র থেকে আসে আর কোনোভাবে কোথাও কোন বিপর্যয় দেখা দেয় তাহলে সেই বিপর্যয় সামাল দেওয়ার ক্ষমতা নেই আমাদের। সেক্ষেত্রে গোটা বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।

হাসিব চৌধুরী আরও বলেন, ‘রূপপুর অত্যন্ত ঘনবসতি এলাকা। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনা হলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়বে। এতে সেখান থেকে কম করে হলেও ৩০ লাখ মানুষ সরিয়ে নিতে হবে। এটি বাংলাদেশে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। রূপপুরে গণহত্যার আয়োজন করছে সরকার।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমতউল্লাহ বলেন, বিদেশি শক্তিকে খুশি করার জন্য জ্বালানি হলো প্রধান খাত। বাংলাদেশকে যারা ইচ্ছেকৃতভাবে ধ্বংস ডেকে আনতে চায় তারাই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মদদ দিচ্ছে।

বিডি রহমতউল্লাহ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প হিসেবে সৌর বিদ্যুৎ রয়েছে, নদীর স্রোত ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, বায়ু বিদ্যুতের সম্ভাবনা প্রচুর। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যয় বড়জোর আড়াই টাকা আর তেলভিত্তিক কেন্দ্রে সর্বোচ্চ চার থেকে সাড়ে চার টাকা। গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ সাড়ে তিন টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া প্রমুখ।

Share URL copied
Lead Newsবাংলাদেশ

রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রজ্ঞাপন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির...

Lead Newsস্বাস্থ্য

হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের...

Lead Newsঅর্থনীতি

কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ টাকা ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানীতে বাজারে শাক-সবজির পাশাপাশি হুহু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। বেশ কিছুদিন ধরে ২০০ টাকার ওপরে থাকলেও টানা বৃষ্টি ও বন্যার...