Current date Sep 17, 2026
বাংলাদেশ

দুর্লভ প্রাণী উড়ন্ত কাঠবিড়ালির দেখা মিলেছে শ্রীমঙ্গলে

URL copied
Share URL copied

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: কাঠবিড়ালির সঙ্গে আমাদের পরিচয় থাকলেও অনেকেই উড়ন্ত কাঠবিড়ালি চিনি না। চিনার কথাও নয়। বাংলাদেশের অতি দুর্লভ এই প্রাণীটি সাধারণত গহীন বনে থাকার কারণে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকে।

সাধারণভাবে এদের আয়ুষ্কাল ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত হলেও বিপন্ন বন্য পরিবেশ ও খাদ্য সংকটের কারণে এদের গড় আয়ু এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

সম্প্রতি অসুস্থ অবস্থায় এমনই একটি উড়ন্ত কাঠ বিড়ালীকে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগান থেকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগানের রাস্তার পাশে হঠাৎ করে একটি উড়ন্ত কাঠবিড়ালিকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় যুবক কাজল হাজরা প্রাণীটিকে বাড়িতে নিয়ে আসে। প্রাণীটিকে কয়েকদিন বাড়িতে রেখে কিছুটা সুস্থ করে বুধবার সকালে শ্রীমঙ্গলস্থ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে কাছে তুলে দেয়। বর্তমানে প্রাণীটি সেখানেই আছে।

কাজল হাজরা জানায়, ‘পেশায় ফটোগ্রাফার হওয়ার কারণে প্রায়ই ক্যামেরা নিয়ে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াই। গত শনিবার (১৪ জুলাই) ছবি তুলতে গিয়ে রাস্তার পাশের চা বাগানে এই প্রাণীটি চোখে পড়ে। সেখানে গেলে দেখা যায় কাঠবিড়ালির বাচ্চা। প্রাণীটিকে স্পর্শ করে বোঝা যায় প্রাণীটি খুবই অসুস্থ। সেখান থেকে প্রাণীটিকে এনে বাড়িতে গরুর দুধ, পানি, ফল খাইয়ে কয়েকদিন রেখে কিছুটা সুস্থ করে তুলে বুধবার সকালে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কাছে দিয়ে আসি।’

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, কাজল হাজরা আমাদের কাছে যে প্রাণীটি দিয়ে গেছে এই প্রাণীটির নাম বিচিত্র রঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি। প্রাণীটির বয়স অনেক কম। এবং প্রাণীটি অসুস্থ হয়ে আছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো প্রাণীটিকে সুস্থ করে তুলে তার আবাস্থলে ফিরিয়ে দেয়ার।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব জানান, বিচিত্র রঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালিকে কেউ কেউ ‘উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি’ বলে থাকেন। এটি একটি দুর্লভ বিরল প্রাণী। এর ইংরেজি নাম পার্টিকালারড ফ্লাইং স্কুইরাল ((particolored flying squirrel)) এবং বৈজ্ঞানিক নাম হাইলোপেটিস অ্যালবোনিগার (Hylopetes alboniger)। উড়ন্ত কাঠবিড়ালি মাথাসহ দেহের দৈর্ঘ্য ২৫-৩০ সেমি এবং লেজ ২৫-৩০ সেমি হয়ে থাকে। কান তুলনামূলকভাবে বড়, এদের চ্যাপ্টা লেজ স্পষ্ট ডিস্টিকিউয়াস, দেহের পার্শে কালচে-বাদামি এবং নিচ সাদা। লেজ ধুসর থেকে ধুসর বাদামি, লেজের গোড়া ফ্যাকাসে, আগা গাঢ় রঙের। পা গাঢ় বাদামি। অপ্রাপ্তবয়স্ক পিঠ কালো ও দেহতল সাদা। উড়ন্ত কাঠবিড়ালি নিশাচর ও বৃক্ষবাসী প্রাণী। মাটিতে তেমন একটা নামে না। গাছ থেকে গাছে উড়ে বেড়ায়। গাছের শিকর, কুড়ি, পাতা ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। সিলেট ও চট্টগ্রামের চির বনাঞ্চলে এদের দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, বিচিত্র রঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি এক গাছ থেকে অন্য গাছে দেড়শ’ থেকে দুইশ’ ফুট দূরত্বে লাফাতে পারে। ওড়ার সময় পেছনের লেজকে এরা লাগাম হিসেবে ব্যবহার করে। সাধারণভাবে এদের আয়ুষ্কাল ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত হলেও বিপন্ন বন্য পরিবেশ ও খাদ্য সংকটের কারণে এদের গড় আয়ু এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।আরটিভি অনলাইন

Share URL copied
Lead Newsবাংলাদেশ

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত...

Lead Newsবাংলাদেশ

সরকারি মুকসুদপুর কলেজে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা, ডকুমেন্টারি ও থিম সং প্রদর্শন অনুষ্ঠিত

আরেফিন মুক্তা – মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের সরকারি মুকসুদপুর কলেজে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ আগস্ট আলোচনা সভা, ডকুমেন্টারি ও থিম...

Lead Newsবাংলাদেশ

মুকসুদপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আরেফিন মুক্তা- মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ (১–৭ আগস্ট) উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) উপজেলা স্বাস্থ্য...