Current date Sep 17, 2026
বিশ্ব

পাকিস্তানের নির্বাচন প্রভাবিত করেন যে পীররা

URL copied
Share URL copied

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী বুধবার। এই নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন দেশটির অসংখ্য সুফি নেতা বা পীররা। তারা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে তাদের সমর্থন ঘোষণা করে তাদের পক্ষে ভক্ত অনুসারীদের ভোট দেয়ার আদেশ দিচ্ছেন।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক পীর বা তাদের বংশধররা নিজেরাও সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে একটি কমিউনিটি সেন্টার, যেখানে সাধারণত বিয়েশাদীর অনুষ্ঠান হয়, সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে কয়েকশ’ পীর বা সুফি সাধকদের একটি সম্মেলন। সেখানে সমবেত হন কয়েকশ’ ভক্ত, যাদের মধ্যে ছিলেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খানও।

সেখানে অংশ নেয়া প্রভাবশালী গোরা শরীফ দরবারের পীর তার অনুসারীদের ইমরান খানের দলকে সমর্থন দিতে বলেন। এই ঘোষণার বিষয়ে তার একজন মুরিদ বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, আমরা পীর সাহেবের গোলাম। তার আদেশ যাই হোক না কেন, আমরা আনন্দের সঙ্গে তা মেনে নেব। সেটি ঠিক না ভুল, তা নিয়ে আমরা বিতর্কে যাবো না। তিনি যা বলবেন, আমরা তাই করবো।’

এক গবেষণা অনুসারে, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের মোট সদস্যের মধ্যে ১৬ শতাংশ পীর অথবা তাদের কোনো বংশধর। তবে অনেক পীর নিজেরা সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিয়েও অন্য প্রার্থীদের নির্বাচন জয়ে সহায়তা করেন।

ওই অনুষ্ঠানে বিবিসি সংবাদদাতার কথা হয় ইমরান খানের দলের একজন প্রার্থীর ভাইয়ের সঙ্গে, যাকে একজন পীর সমর্থন দেয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘পীর আমাদের সমর্থন দিতে রাজি হয়েছেন। আজ সকালেই তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি এখন এখানে সেই ঘোষণা দেবেন।’

এ ধরনের আধ্যাত্মিকতার বিষয়টি এখনো পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। ফলে পীরদের প্রভাবও ব্যাপক। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে টাকা আর জমি লেনদেনের বিষয়টিও। কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে পারে, সেটা দেখে প্রায়ই এই পীররা তাদের সমর্থন পরিবর্তন করেন।

কেন তারা এখন ইমরান খানকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন— একজন পীরের কাছে জানতে চেয়েছিলেন সংবাদদাতা। জবাবে ওই পীর বলেন, ‘আমরা একদিনেই এই সিদ্ধান্ত নেইনি। গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক স্কলারের সঙ্গে আলাপ আলোচনার পর আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন তারা সবাই নিজেদের এলাকায় ফিরে যাবে এবং তাদের ভক্ত অনুসারীদের ইমরান খানকে ভোট দেয়ার জন্য বলবে।’

তিনি মনে করেন, রাজনীতি আর ধর্ম পরস্পর জড়িত বিষয়, অনেকটা রেললাইনের দুইটি লাইনের মতো।

সমাবেশে ইমরান খান ঘোষণা দেন, তিনি পাকিস্তানকে একটি ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্র বানাতে চান।

এর আগের ক্ষমতাসীন দল পিএমএল (এন) পার্টিও অতীতে এই ধর্মীয় গোষ্ঠীর বেশিরভাগ সমর্থন পেয়েছিল। কিন্তু এখন ইমরান খান সেই সমর্থন আদায় করে নিয়েছেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করে ইমরান খানের দলের নেতা শিবলি ফারাজ বলেন, ‘এটা একটি ধর্মপ্রাণ সমাজ, সুতরাং আমরা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের মানুষের কাজে যাওয়ার চেষ্টা করছি। পীররা আমাদের সমাজে এখনো অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা অনেক ভোট সংগ্রহ করতে পারেন। ভক্তদের ওপর তাদের অনেক প্রভাব রয়েছে। আর এটাই পাকিস্তানী রাজনীতির বাস্তবতা।’

তবে ফারাজ মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একদিন এসব আধ্যাত্মিকতা বাদ দিয়ে প্রার্থীদের যোগ্যতার বিষয়টি ভোটারদের কাছে প্রাধান্য পাবে।

তার মতে, শিক্ষা, সচেতনতা আর ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পীরদের প্রভাব এখন অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। তবে এখনো পীররা পাকিস্তানের আধ্যাত্মিকতা আর রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই রয়েছেন।

 

Share URL copied
Lead Newsবাংলাদেশ

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত...

Lead Newsবাংলাদেশ

সরকারি মুকসুদপুর কলেজে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা, ডকুমেন্টারি ও থিম সং প্রদর্শন অনুষ্ঠিত

আরেফিন মুক্তা – মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের সরকারি মুকসুদপুর কলেজে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ আগস্ট আলোচনা সভা, ডকুমেন্টারি ও থিম...

Lead Newsবাংলাদেশ

মুকসুদপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আরেফিন মুক্তা- মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ (১–৭ আগস্ট) উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) উপজেলা স্বাস্থ্য...